×
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ বৃহস্পতিবার, ০৩ বৈশাখ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ বৃহস্পতিবার, ০৩ বৈশাখ ১৪৩৩

সকাল ৮টা। স্পেনের পাম্পলোনা শহরের একটি সরু রাস্তা। আপনার সামনে পথ খোলা, কিন্তু পেছনে ধেয়ে আসছে একদল উন্মত্ত ষাঁড়, যাদের শিং-এ লেগে আছে মৃত্যুর পরোয়ানা। আপনি দৌড়াচ্ছেন, আপনার নিঃশ্বাস ভারি হয়ে আসছে, আর কানের পাশে বাজছে হাজারো মানুষের চিৎকার। এটি কোনো দুঃস্বপ্ন নয়, এটিই স্পেনের বিশ্ববিখ্যাত ‘রানিং অফ দ্য বুলস’ উৎসব—একই সাথে ঐতিহ্য, সাহস এবং উন্মাদনার এক অদ্ভুত মিশ্রণ। দেখুন উৎসবের একটি রোমাঞ্চকর ভিডিও—

কীভাবে শুরু হলো এই রক্ত-হিম করা প্রথা?

এই উৎসবের শুরুটা কিন্তু এমন রোমাঞ্চকর ছিল না। এর জন্ম হয়েছিল মধ্যযুগে, একটি সাধারণ প্রয়োজন থেকে। কসাই বা মাটাডোররা তাদের ষাঁড়গুলোকে শহরের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে থাকা অ্যারেনা বা কসাইখানায় নিয়ে যাওয়ার জন্য এই পথ ব্যবহার করত। পথের দুই ধারে দাঁড়িয়ে থাকা উৎসুক জনতা ষাঁড়গুলোকে ভয় দেখিয়ে বা তাড়িয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করত। সময়ের সাথে সাথে এই প্রয়োজনটাই একসময় উৎসবে পরিণত হয়, আর সাধারণ মানুষ ষাঁড়ের সামনে দৌড়ানোকে সাহস ও পৌরুষের প্রতীক হিসেবে বেছে নেয়।

সান ফেরমিন: এক সপ্তাহের উন্মাদনা

প্রতি বছর জুলাই মাসের ৬ থেকে ১৪ তারিখ পর্যন্ত স্পেনের পাম্পলোনা শহর মেতে ওঠে ‘সান ফেরমিন’ উৎসবে। আর এই উৎসবের প্রধান আকর্ষণই হলো ‘রানিং অফ দ্য বুলস’। প্রতিদিন সকালে ঠিক ৮টার সময় রকেটের সংকেতের সাথে সাথে শহরের প্রায় ৮০০ মিটার দীর্ঘ একটি নির্দিষ্ট পথ খুলে দেওয়া হয়। এক প্রান্তে থাকে ছাড়া পাওয়া হিংস্র ষাঁড়ের দল, আর অন্য প্রান্তে থাকে জীবন বাজি রেখে দৌড়ানোর জন্য প্রস্তুত শত শত দুঃসাহসী মানুষ। কেউ পড়ে যায়, কেউ ষাঁড়ের গুঁতোয় আহত হয়, আবার কেউ দক্ষতার সাথে দৌড় শেষ করে—আর এই পুরো দৃশ্য ব্যালকনি বা রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে উপভোগ করে হাজার হাজার দর্শক।

মৃত্যু যখন খেলার সঙ্গী

এই উৎসবের আকর্ষণ যতটা, এর বিপদ তার চেয়ে কম নয়। অনেকে বলেন, এটিই পৃথিবীর একমাত্র খেলা, যেখানে মৃত্যু খেলার সঙ্গীর মতো আপনার পাশে পাশেই ছোটে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত শতাব্দীতে এই উৎসবে অংশ নিয়ে অন্তত ১৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই মৃত্যুভয় উপেক্ষা করেই প্রতি বছর বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশ থেকে হাজার হাজার পর্যটক ছুটে আসে এই উন্মাদনায় অংশ নিতে। তাদের কাছে এই দৌড় শুধু একটি উৎসব নয়, এটি ভয়কে জয় করার একটি চ্যালেঞ্জ।

‘রানিং অফ দ্য বুলস’ শুধু একটি ঐতিহ্যবাহী উৎসব নয়, এটি মানুষের ভেতরের साहस, ভয় এবং জীবনের প্রতি ভালোবাসার এক চূড়ান্ত পরীক্ষা। এই উৎসব শুধু দেখার নয়, অনুভব করার। কিন্তু প্রশ্ন হলো, যদি কখনো স্পেনের পাম্পলোনা শহরে যান এবং সুযোগ পান, আপনি কি ষাঁড়ের সামনে দৌড়ানোর সাহস করবেন? নাকি ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে নিরাপদে উপভোগ করবেন জীবনের এই অসাধারণ রোমাঞ্চ?

মন্তব্য করুন

আবশ্যক ঘরসমূহ * চিহ্নিত করা হয়েছে

সম্পর্কিত