পানিতে ভিজলে হাত-পায়ের চামড়া কুঁচকে যায় কেন? আসল কারণ জানলে অবাক হবেন!
দীর্ঘক্ষণ গোসল বা সুইমিং পুলে দাপাদাপির পর আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের কুঁচকে যাওয়া আঙুলগুলো দেখেছেন নিশ্চয়ই? ছোট ছোট ভাঁজে পূর্ণ এই আঙ্গুলগুলো দেখতে অনেকটা কিশমিশের মতো লাগে। বেশিরভাগ মানুষই মনে করে, চামড়া পানি শোষণ করে ফুলে ওঠার কারণেই এমনটা হয়। কিন্তু যদি বলি, এই ধারণাটি আসলে সঠিক নয়? এর পেছনের আসল কারণটি আরও অনেক বেশি আকর্ষণীয় এবং আমাদের মস্তিষ্কের এক অসাধারণ কারসাজি। আসুন ভিডিওটা দেখি।
প্রচলিত ভুল ধারণা: চামড়া কি সত্যি পানি শোষণ করে?
আমাদের ত্বক, বিশেষ করে এর বাইরের স্তর (এপিডার্মিস), কেরাটিন নামক এক ধরনের প্রোটিন দিয়ে তৈরি, যা এটিকে প্রায় জলরোধী (waterproof) করে তোলে। যদিও সামান্য পানি ত্বকে প্রবেশ করে, তবে তা আঙুল কুঁচকে যাওয়ার মতো এমন নাটকীয় পরিবর্তনের জন্য যথেষ্ট নয়। যদি শুধু পানি শোষণের ফলেই এমনটা হতো, তাহলে আমাদের পুরো শরীরের চামড়াই কুঁচকে যেত, শুধুমাত্র হাত বা পায়ের আঙুল নয়। আসল ঘটনাটি ঘটে আমাদের স্নায়ুতন্ত্রের এক বিশেষ নির্দেশে।
আসল রহস্য মস্তিষ্কের নিয়ন্ত্রণে
যখন আমাদের হাত বা পা দীর্ঘক্ষণ পানির সংস্পর্শে থাকে, তখন আমাদের স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র (Autonomous Nervous System) সক্রিয় হয়ে ওঠে। এটি আমাদের শরীরের সেই অংশ যা হৃদস্পন্দন বা শ্বাস-প্রশ্বাসের মতো অনৈচ্ছিক কাজগুলো নিয়ন্ত্রণ করে।
পানির সংস্পর্শে আসার পর, এই স্নায়ুতন্ত্র আঙুলের ডগায় থাকা রক্তনালীগুলোকে সঙ্কুচিত হওয়ার জন্য একটি সংকেত পাঠায়। রক্তনালীগুলো সরু হয়ে গেলে, আঙুলের ভেতরের অংশের আয়তন কিছুটা কমে যায়। কিন্তু চামড়া তো আগের মতোই থাকে! ফলে, ভেতরের কমে যাওয়া আয়তনের সাথে তাল মেলাতে গিয়ে বাইরের চামড়া ভাঁজ হয়ে যায়, যা আমরা “কুঁচকে যাওয়া” হিসেবে দেখি। এটি প্রমাণ করে যে, যাদের আঙুলে স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের আঙুল পানিতে রাখলেও কুঁচকে যায় না।

কেন এই বিবর্তন? কুঁচকানো আঙুলের ‘সুপারপাওয়ার’
এখন প্রশ্ন হলো, শরীর কেন এমনটা করে? বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এর পেছনে রয়েছে বিবর্তনের এক চমৎকার উদ্দেশ্য। এই কুঁচকে যাওয়া চামড়া আসলে ভেজা অবস্থায় আমাদের কোনো কিছু ধরতে সাহায্য করে।
ব্যাপারটাকে গাড়ির টায়ারের সাথে তুলনা করা যেতে পারে। টায়ারের খাঁজগুলো যেমন বৃষ্টির পানি সরিয়ে দিয়ে রাস্তাকে আরও ভালোভাবে আঁকড়ে ধরতে সাহায্য করে, ঠিক তেমনি আঙুলের এই ভাঁজগুলোও পানি সরিয়ে দিয়ে একটি শক্তিশালী গ্রিপ তৈরি করে। এর ফলে ভেজা পাথর বা অন্য কোনো পিচ্ছিল জিনিস ধরে রাখা সহজ হয়। এটি ছিল আমাদের পূর্বপুরুষদের জন্য টিকে থাকার এক অসাধারণ কৌশল।
পরেরবার যখন আপনার আঙুল পানিতে কুঁচকে যাবে, তখন বিরক্ত না হয়ে বরং বিস্মিত হন! এটি কোনো সমস্যা নয়, বরং এটি প্রমাণ করে যে আপনার মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুতন্ত্র দুটোই সুস্থ আছে এবং ঠিকঠাকভাবে কাজ করছে। আমাদের শরীর যে কতটা নিখুঁত এবং বিস্ময়করভাবে ডিজাইন করা, এটি তার এক চমৎকার উদাহরণ।
আপনার কাছে আমাদের প্রশ্ন: মানবদেহের এমন আর কোন বিস্ময়কর বিষয় সম্পর্কে আপনি জানতে চান? কমেন্টে আমাদের জানান!

Hazrath
4 months আগে
Interesting